নুর নবী:
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ঈদগাঁও জাহানারা ইসলাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সিনিয়র শিক্ষকের বিরুদ্ধে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে চেয়ারের আঘাতে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা কুলছুমা আরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে জানা যায়, ভিকটিম নিলিমা রহমান মাইসা (১৫) ওই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির কমার্স বিভাগের ছাত্রী। গত ১১ জুন ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে ব্যবসায়ী উদ্যোগ বিষয়ে ক্লাস চলাকালে হোমওয়ার্ক জমা নেওয়ার সময় অসুস্থতার কারণে কাজ সম্পন্ন করতে না পারার বিষয়টি শিক্ষককে জানায় সে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মাষ্টার সানা উল্লাহ ছাত্রীটির কথা না শুনে তাকে শাসান । একপর্যায়ে হাতে থাকা চেয়ার নিয়ে তার সামনে গিয়ে বুক ও পেট লক্ষ্য করে আঘাত করেন। এতে চেয়ারের পা ছাত্রীটির শরীরে আঘাত হানে এবং সে শ্রেণিকক্ষের মেঝেতে পড়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
পরে জ্ঞান ফিরে এলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে সহপাঠীদের মাধ্যমে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করান। পরে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ১২ জুন ঈদগাঁও বাজারের এক চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। সেখানে এক্স-রে ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে গত ১৭ জুন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে বলে পরিবার জানিয়েছে।
ভুক্তভোগীর মা অভিযোগে দাবি করেন, ঘটনার পর থেকে তার মেয়ে শ্বাসকষ্ট, বমি এবং তীব্র শারীরিক ব্যথায় ভুগছে। পাঁচবছর আগে তার স্বামীকে কেড়ে নেয় মরণ ব্যাধি ক্যানসার একমাত্র মেয়েকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে বেঁচে থাকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি সেই মুহুর্তে আমার মেয়ের এত বড় ক্ষতি হবে আমি কল্পনা করিনি। তিনি শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক বা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এই ঘটনার বিষয়ে আমি অবগত আছি। আমি এবং আরও কয়েকজন শিক্ষক নিয়ে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলাম।


