নিউজ ডেস্ক:
কক্সবাজারের রামু উপজেলার ঈদগড়ে আলোচিত অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া বাসচালক মোহাম্মদ তারেককে ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক। পুলিশের দাবি, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানে তারেকের কাছ থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পরিবারের অভিযোগ, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তাকে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৭ মে গভীর রাতে ঈদগড় ইউনিয়নের একটি বসতঘরে অভিযান চালিয়ে তারেকের হেফাজত থেকে একটি দেশীয় তৈরি একনলা এলজি ও দুটি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
অন্যদিকে, তারেকের পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাস ও পিকআপচালক হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। এর আগে কখনো তার বিরুদ্ধে অস্ত্র বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কোনো অভিযোগ শোনা যায়নি।
তারেকের স্ত্রী রিনা আক্তার অভিযোগ করেন, একটি বাসের মালিকানা ও অংশীদারিত্ব নিয়ে বিরোধের জেরে তার স্বামীকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের কল রেকর্ড ও আর্থিক লেনদেন তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও দাবি করেছেন, তারেক একজন সাধারণ পরিবহনশ্রমিক। তাকে অস্ত্র মামলার আসামি হিসেবে দেখানোয় তারা বিস্মিত।
এদিকে অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাদক সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হলেও অভিযানের সময় অস্ত্র উদ্ধার হওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে কাজ চলছে।
বর্তমানে মামলাটিকে ঘিরে দুটি বিপরীত দাবি সামনে এসেছে—একদিকে পুলিশের অস্ত্র উদ্ধারের দাবি, অন্যদিকে পরিবারের পরিকল্পিত ফাঁসানোর অভিযোগ। ফলে প্রকৃত সত্য কী, তা জানতে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের অপেক্ষায় রয়েছে এলাকাবাসী


