বাংলাদেশে সম্প্রতি বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও মাসিক খরচে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবারই এখন খরচ নিয়ন্ত্রণে আনার উপায় খুঁজছে। তবে সঠিক ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে বিদ্যুৎ বিল উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব; বিশেষ করে বাসাবাড়ি ও ছোট ব্যবসার ক্ষেত্রে।সাধারণ দেখা যায়, এসি, গিজার, ওভেন, ইস্ত্রি ও বৈদ্যুতিক চুলা সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে। অন্যদিকে এলইডি বাল্ব, ফ্যান ও মোবাইল চার্জার তুলনামূলকভাবে কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে।
যেসব ঘরোয়া কৌশলে বিদ্যুৎ বিল কমানো যাবে
অপ্রয়োজনীয় সুইচ বন্ধ রাখা
ফ্যান, লাইট, টিভি ও কম্পিউটার ব্যবহার না করলে অবশ্যই সুইচ বন্ধ রাখা উচিত। অনেক সময় বাথরুম বা বারান্দার লাইট জ্বলে থাকে, যা অপ্রয়োজনীয় খরচ বাড়ায়। ব্যবহারের পর ইস্ত্রি বা অন্যান্য যন্ত্রের প্লাগ খুলে রাখা এবং ডিভাইস সম্পূর্ণ বন্ধ করা জরুরি।
এনার্জি সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহার
প্রচলিত বাল্বের পরিবর্তে এলইডি বা এনার্জি সেভিং বাল্ব ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ খরচ অনেক কমে। ইনভার্টার প্রযুক্তির ফ্রিজ, এসি ও ওয়াশিং মেশিন তুলনামূলকভাবে কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, যা দীর্ঘমেয়াদে বিল কমাতে সাহায্য করে।
এসির নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার
এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখা সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। নির্দিষ্ট ঠাণ্ডা হওয়ার পর এসি বন্ধ করে ফ্যান চালানো যেতে পারে। রাতে টাইমার ব্যবহার করলে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ কমে যায়।
বৈদ্যুতিক সংযোগ ও তারের মান
নিম্নমানের তার বা দুর্বল সংযোগ বিদ্যুৎ অপচয়ের কারণ হতে পারে। পুরনো বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা বা সাব-স্টেশন সমস্যাও অতিরিক্ত খরচ বাড়ায়। তাই বছরে অন্তত একবার বৈদ্যুতিক সিস্টেম পরীক্ষা করা জরুরি।
বিকল্প ও দক্ষ যন্ত্র ব্যবহার
মাইক্রোওভেনের পরিবর্তে চুলা বা স্লো কুকার ব্যবহার করা যেতে পারে। ওয়াশিং মেশিনে গরম পানির সেটিং কম ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ খরচ অনেকটা কমানো সম্ভব।
প্রাকৃতিক শক্তির ব্যবহার
দিনের আলো কাজে লাগানো, এলইডি লাইট ব্যবহার এবং সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারে বিদ্যুৎ খরচ অনেকটা কমানো যায়। কিছু এলাকায় এখন সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহও দেওয়া হচ্ছে।
বিদ্যুতের স্ল্যাব ব্যবস্থার সুবিধা
বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন দামে বিল নির্ধারিত হয়। কম ইউনিট ব্যবহার করলে নিম্ন স্ল্যাবে থাকা যায়, ফলে প্রতি ইউনিট খরচ কম পড়ে। তাই ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ