ঢাকামঙ্গলবার , ৫ আগস্ট ২০২৫
  1. APIs
  2. Builders
  3. Bypass
  4. Bypasser
  5. CamRip
  6. Concerts
  7. Cracked
  8. Crackers
  9. Emulators
  10. Enablers
  11. Excel
  12. Extras
  13. Few-Shot
  14. Hacksers
  15. HD

যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার অপরাধীরা জামিনে মুক্তি পেয়ে লাপাত্তা

Zahid Hassan
আগস্ট ৫, ২০২৫ ৫:৫৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

  • জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত নিম্ন আদালতে জামিনে মুক্ত ৪,৮০৮ জন।
  • বেশির ভাগ মাদক, চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি মামলার আসামি।
  • জামিনের পর ২১০০ জন লাপাত্তা, আদালতে আর হাজির হচ্ছেন না।
  • পুলিশ বলছে, মুক্তি পেয়ে অপরাধীরা আবার একই অপরাধে জড়াচ্ছে।
আমানুর রহমান রনি, ঢাকা

সেলিম ওরফে চুয়া সেলিম। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের এই বাসিন্দার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা, অস্ত্র ও মাদকের ৩৫টি মামলা রয়েছে। গত ৮ জানুয়ারি রাতে যৌথ বাহিনী একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তবে গ্রেপ্তারের চার মাসের মাথায় জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি লাপাত্তা।

জেনেভা ক্যাম্পে মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেলিমের প্রতিপক্ষ সোহেল ভূঁইয়া নভেম্বরে যৌথ বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তারের পর জামিন পেয়ে আর আদালতে হাজির হননি। তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে ১২টি মামলা। এ দুজনের মতো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তারের পর গত জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত জামিনে মুক্তি পাওয়া ২ হাজার ১০০ আসামি আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন না। ঢাকার নিম্ন আদালত ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, জামিন পাওয়ার বিষয়টি আসামিদের আইনগত অধিকার ও আদালতের বিষয়। কিন্তু পুলিশকে এ জন্য একই কাজ একাধিকবার করতে হয়। এটা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য চ্যালেঞ্জ। এতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণও বাধাগ্রস্ত হয়।

সূত্রগুলো বলছে, জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ঢাকার নিম্ন আদালত থেকে ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি, মাদক ও হত্যা মামলায় জামিন পেয়েছেন মোট ৪ হাজার ৮০৮ জন। তাঁদের মধ্যে ছিনতাই মামলায় ৭৫৬, মাদক মামলায় ১ হাজার ৫৬৪, চুরির মামলায় ২ হাজার ১৬, ডাকাতি মামলায় ৪৬৮ এবং হত্যা মামলায় চার আসামি রয়েছেন। এদের বেশির ভাগই যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে গত অক্টোবর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। জামিনে মুক্তি পাওয়া আসামিদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশই আদালতে নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছেন না। তাঁদের অনেকে আবার ছিনতাই, ডাকাতি, চুরি ও মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ছেন।

পুলিশের সূত্র জানায়, সেলিম ওরফে চুয়া সেলিমের অনুসারীরা জেনেভা ক্যাম্পে মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তালিকায় নাম থাকলেও সেলিম ক্যাম্পে থাকেন না। ওই ক্যাম্পে মাদক কারবারের প্রতিদ্বন্দ্বী সোহেল ভূঁইয়ার বিরুদ্ধেও হত্যা, হত্যাচেষ্টা, অস্ত্র ও মাদকের ১২টি মামলা রয়েছে। ক্যাম্পে মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেলিম ও সোহেলের অনুসারীদের মধ্যে প্রায়ই গোলাগুলি হয়। গত সেপ্টেম্বর ও নভেম্বরে দুই পক্ষের গোলাগুলিতে দুই মাদক কারবারি নিহত হন। নভেম্বরে সোহেল এবং জানুয়ারিতে সেলিমকে গ্রেপ্তার করে যৌথ বাহিনী। পরে দুজনই জামিন পেয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে গেছেন।

জেনেভা ক্যাম্পের কেউ সেলিম ও সোহেলের বিষয়ে মুখ খুলতে চান না ভয়ে। জানতে চাইলে শরীফ নামের এক ব্যক্তি বলেন, সেলিমের নাম শুনেছেন, তবে কখনো তাঁকে ক্যাম্পে দেখেননি।

গেন্ডারিয়া থানার দুটি ডাকাতি মামলায় গত মাসে নিম্ন আদালত থেকে জামিন পান আসামি রাজন। পুলিশের নথি বলছে, এই যুবকের বাসা গেন্ডারিয়ার ডিস্টিলারি রোডে। তিনি এখন পলাতক। একই মামলার পাশাপাশি পুলিশের ওপর হামলার মামলায়ও জামিন পেয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম রাজু। তাকে আগেও একবার গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।

জানুয়ারিতে যৌথ বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার উত্তরা পশ্চিম থানার দুই মামলার আসামি রবিউল আওয়াল, খিলক্ষেত থানার দুটি ও মিরপুর মডেল থানার একটি মামলার আসামি রুবেল হোসেন, যাত্রাবাড়ী থানার দুটি ছিনতাই মামলার আসামি রুবেল এবং বংশাল থানার দুই মামলার আসামি পাক্কু রনি জামিন পেয়ে আর আদালতে হাজিরা দেননি। পাক্কু রনিকে যৌথ বাহিনী এর আগেও ছিনতাই মামলায় গ্রেপ্তার করেছিল।

ডিএমপির সদর দপ্তরের অপরাধ বিভাগ বলেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনেক পরিশ্রম করে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে। কিন্তু তাঁরা জামিন পেয়ে আবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। এতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ চ্যালেঞ্জিং হচ্ছে।

ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের সূত্র বলছে, যেসব আসামি জামিন পেয়েছেন, তাঁদের অধিকাংশই মামলার তারিখ অনুযায়ী আদালতে আসছেন না। তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন করা হয়েছে। তাঁদের আবার গ্রেপ্তারের জন্য কাজ করতে হবে।

ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ‘আমরা ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার, হত্যা মামলাসহ যেসব অপরাধী জনগণের জন্য হুমকি তাদের জামিনের বিরোধিতা করি। তারপরও কিছু অপরাধী জামিন পায়। তবে আমরা সব সময় চেষ্টা করি যাতে অপরাধীরা কোনো ফাঁকফোকর দিয়ে জামিনে বের হয়ে না যায়।’

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।